History Of Mohanpur Upazila

প্রাণের উপজেলা মোহনপুর সম্পর্কে কিছু তথ্য

 

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালে উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামে এক মাদ্রাসায় রাজাকাররা ক্যাম্প স্থাপন করে। সেখানে অবস্থানকালে তারা এই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও নিরীহ লোকজনের ওপর অমানুষিক অত্যাচার চলায়। ২৮ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ দেওয়ান বিহাত্রা গ্রামে নিজ বাড়িতে রাজাকারদের হাতে শহীদ হন এবং রাজাকাররা তাঁর বাড়ি লুণ্ঠন করে। নভেম্বর মাসে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারদের ক্যাম্প আক্রমণ করে ৬ জন রাজাকারকে হত্যা করে।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন গণকবর ১ (সাঁকোয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন)।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ৪৬১, মন্দির ২৬। উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: সইপাড়া জামে মসজিদ, কেশরহাট জামে মসজিদ, মোহনপুর জামে মসজিদ।
শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৪৫.৪%; পুরুষ ৫১.২%, মহিলা ৩৯.৪%। কলেজ ১৭, কারিগরি বিদ্যালয় ২, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৭, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭৮, কিন্ডার গার্টেন ৫, মাদ্রাসা ২০। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: মৌগাছি কলেজ, শ্যামপুর কলেজ, মোহনপুর পাইলট হাইস্কুল (১৯৪৮), মোহনপুর সরকারি হাইস্কুল, সাঁকোয়া বাকশৈল কামিল মাদ্রাসা।
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি ১, সিনেমা হল ১, যাত্রাদল ১, ক্লাব ২২।
জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৭৩.২৯%, অকৃষি শ্রমিক ২.৫২%, শিল্প ০.৮৯%, ব্যবসা ১১.৮৪%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ২.৯১%, চাকরি ৩.৫২%, নির্মাণ ০.২৯%, ধর্মীয় সেবা ০.০৮%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.১১% এবং অন্যান্য ৪.৫৫%।
কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৬৬.৭২%, ভূমিহীন ৩৩.২৮%। শহরে ৬৪.১% এবং গ্রামে ৬৬.৯৩% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।
প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, ভূট্টা, গম, সরিষা, পান, শাকসবজি।
বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি আখ, তিল, যব, মসুরি, অড়হর।
প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, বেল।
মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার মৎস্য ৩১, গবাদিপশু ৪৪, হাঁস-মুরগি ৬০, হ্যাচারি ২, নার্সারি ১২।
যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৫৯.১২ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ৮.২৬ কিমি, কাঁচারাস্তা ২৩০.৮৪ কিমি; নৌপথ ৫.৪০ নটিক্যাল মাইল।
বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়ি।
শিল্প ও কলকারখানা আইস ফ্যাক্টরি ৭, ওয়েল্ডিং কারখানা ২০।
কুটিরশিল্প লৌহশিল্প ৫০, মৃৎশিল্প ৪০, কাঠের কাজ ২৫, বাঁশের কাজ ২৫০।
হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ২৩, মেলা ২। কেশর হাট, একদিল তলা হাট, ধোপাঘাটা হাট ও মৌমাছি হাট এবং রাস মেলা উল্লেখযোগ্য।
প্রধান রপ্তানিদ্রব্য পাট, পান, ময়দা, আম, লিচু।
বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ২০.৭৪% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৯৭.৩৪%, ট্যাপ ০.২৩%, পুকুর ০.৫৮% এবং অন্যান্য ১.৮৫%।
স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ২৪.৭৯% (গ্রামে ২৩.৩১% এবং শহরে ৪৩.৬৪%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৪৭.৬৭% (গ্রামে ৪৮.২৯% এবং শহরে ৩৯.৭৯%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। তবে ২৭.৫৪% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ৬, পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১, মাতৃকল্যাণ কেন্দ্র ১২, ক্লিনিক ১৯, পশু চিকিৎসা কেন্দ্র ৬।
এনজিও ব্র্যাক, আশা, সিসিডিবি। [মো. আনোয়ারুল হক]
তথ্যসূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; মোহনপুর উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।

Source:https://www.facebook.com/%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%A8%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%A8%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%80-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-1663188847247709/timeline/?ref=page_internal

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *